ঠাকুরগাওয়ে কোয়েল পাখির খামার স্থাপন
ইচ্ছা আর অধ্যবসায়কে কাজে লাগিয়ে মেহেদী হাসান লেনিন নামে এক যুবক অল্প পুঁজিতে ব্যাতিক্রমী এক পাখির খামার গড়ে তুলে বেকারত্বকে ডিঙ্গিয়ে সাফল্য অর্জন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, কোন খরচ ছাড়াই শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক বাল্বের সাহায্যে ডিমে তাপ দিয়ে মাসে ৮ হাজার পাখির বাচ্চা উৎপাদন করে অন্যত্র সরবরাহ করছেন।এভাবে প্রতিদিন কমপক্ষে ৭শ ডিম এবং ৩’শ পাখি বিক্রি করে ২ হাজার টাকা আয় করছেন। তার অনুপ্রেরণায় ওই এলাকায় আরো ১০টি খামার গড়ে ওঠেছে।
উদ্যোক্তা এই যুবকের নাম মেহেদী হাসান লেনিন। বাড়ি ঠাকুরগাও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে সীমান্ত গ্রাম আগ্রাগরিনাবাড়ি। তিনি বাড়র পার্শ্বে পুকুর পাড়ে গড়ে তুলেছেন বিরাট কোয়েল পাখির খামার। এখানে ডিম ও বাচ্চা উৎপাদনের ৬ হাজার পাখি রয়েছে।
সেইসাথে পীরগঞ্জ শহরের মিত্রবাটি গ্রামে একটি টিনসেড বাড়িতে দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে তিনি হ্যাচারি গড়ে তুলেছেন। খামারে উৎপাদিত ডিম থেকে হ্যাচারিতে তিনি বাচ্চা ফুটান। সম্পূর্ণ নিজস্ব পদ্ধতিতে সামান্য খরচে মাসে ৮ হাজার বাচ্চা উৎপাদিত হয় এই হ্যাচারিতে।
এজন্য তিনি একটি কক্ষে কয়েকটি প্লাস্টিকের ট্রেতে ডিম রেখে বৈদ্যুতিক বাল্ব দিয়ে ৯৮ থেকে ১০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রায় রেখে দেন ১৩ দিন। এরপর আরেকটি কক্ষে তাপমাত্রা কিছু কমিয়ে ২ দিন রাখলেই আপনা-আপনি ডিম থেকে বাচ্চা বেরিয়ে আসে। ডিম থেকে বাচ্চা ফোঁটানোর হার শতকরা ৮৫ভাগ।
মেহেদী হাসান লেলিন জানান, ৩ বছর আগে তিনি মুন্সিগঞ্জে কোয়েল পাখির খামার দেখতে যান। পরে ঢাকার বঙ্গবাজার থেকে ৯৬টি কোয়েল পাখির বাচ্চা এনে নিজ বাড়িতে খামার শুরু করেন। ৬ মাসের মাথায় সফলতা অর্জন করেন। তারপরও থেমে থাকেননি তিনি। পরবর্তীতে তিনি নিজ চেষ্টায় ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর কৌশল আবিস্কার করে শুরু করেন। গত আড়াই বছরে তিনি ৬৪ লাখ টাকার প্রায় ২ লাখ পাখি বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তার দৈনিক আয় প্রায় ২ হাজার টাকা।
কোয়েল পাখির মাংস খেতে বেশ সুস্বাদু সেজন্য এ পাখির চাহিদাও বেশ। তাই সম্প্রতি তিনি পীরগঞ্জ শহরের রঘুনাথপুরে একটি গুদাম ভাড়া নিয়ে পাখি বিক্রির সেল সেন্টার চালু করেছেন। সেখান থেকে জেলার ও জেলার বাইরে পাখি সরবরাহ করে আসছেন। অল্প খরচে কোয়েল পাখি পালন বেশ লাভজনক বলে তার প্রতি অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় অনেক বেকার যুবক এখন কোয়েল পাখি পালনে উৎসাহিত হয়ে উঠেছেন। ইতোমধ্যে ওই এলাকায় আরো ১০টি খামার গড়ে ওঠেছে।
এ ব্যাপারে ঠাকুরগাও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ মোসাদ্দিকুর রহমান জানান, মেহেদি হাসান লেনিনের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেক বেকার যুবক এখন কোয়েল পাখি পালনে এগিয়ে এসেছেন।
কোয়েল পাখির খামার সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে ডিম ও মাংসের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
ঝালকাঠির বেকার যুবক কামাল কোয়েল পালনে স্বাবলম্বী
কোয়েল পাখির খামার করে ভাগ্যবদল হলো ঝালকাঠি শহরের বেকার যুবক কামালের। যে কামাল এক সময়ের কাঠপট্টির ক্যারা কামাল নামে পরিচিত ছিল। দাঙ্গা-হাঙ্গামা, মারামারি ও মামলায় আসামী হওয়াটাই ছিল যার নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। সেই কামাল এখন কোয়েলের মত শান্ত হয়ে কোয়েল পাখির খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছে। ঝালকাঠি শহরের কাঠপট্টির বাসিন্দা মোঃ কামাল খলিফা বলেন, তিনি সাড়ে ৪ বছর পূর্বে খুলনা থেকে ৫০০ কোয়েল পাখির ডিম কিনে আনেন। পরে কৃত্রিম উপায় তার নিজস্ব ইনকিউবেটর যন্ত্রের সাহায্যে এই ৫শ ডিমে ২৮টি বাচ্চা ফোটায়। ২৮টি বাচ্চা থেকে এখন তার খামারে ৫শ প্যারেন্টস কোয়েল পাখি রয়েছে। খামার করতে তার প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হলেও ইতোমধ্যেই পাখি বিক্রি করে তার খরচ পুষিয়ে লাভ জনক হয়ে গেছে। কামালের খামার থেকে কোয়েল পাখির ডিম বিক্রি করা হচ্ছে প্রতি হালি ১২ টাকা করে এবং বড় পাখি বিক্রি হচ্ছে প্রতি জোড়া ১শ ৫০ টাকা দরে। নিজের বাড়ীতেই খামার করায় কামালের খরচ অনেকটা সাশ্রয় হয়েছে। কামাল বলেন, ৩টি মুরগীর ডিমে যে প্রোটিন আছে তা কোয়েল পাখির একটি ডিমে রয়েছে। কামাল ১শ কোয়েল পাখির ডিম বিক্রি করছেন ৩০০ টাকা দরে। কোয়েল পাখির খাবার প্রসংগে কামাল জানান, ৫শ পাখির জন্য প্রতিদিন ৭ কেজি রেডি ফিট প্রয়োজন হয়। প্রতিদিন খাবার বাবদ খরচ হয় ২২০ টাকা। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কামাল বলেন, তিনি চট্টগ্রাম থেকে তীত মুরগীর ডিম এনে তীত মুরগীর খামার করার পরিকল্পনা করছেন। শীঘ্রই তিনি এই খামারের কাজ শুরু করবেন। এদিকে কামাল খলিফা কোয়েল পাখি সহ বিভিন্ন পশু পাখির রোগ প্রতিরোধের উপর ডেনমার্কের সহযোগিতায় পরিচালিত একটি সংস্থায় ঢাকার সাভারে প্রশিক্ষনও নিয়েছেন। কামালের খামরের সফলতায় শহরের অনেক যুবকই এখন কোয়েল চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে জানালেন কামাল। তার মতে যুবকদের বেকার জীবন হলো অভিশপ্ত। তাই তিনি সকল যুবকদের স্বাবলম্বী হবার জন্য শুধু চাকুরীর পিছনে না ঘুরে তার মত উদ্যোমি ও গঠনমূলক কাজ করার আহবান জানান। কামাল আরো জানান, বছর দুই আগে কোয়েলের খামারে মহামারি দেখা দিয়ে প্রায় আড়াইশ কোয়েল মারা যায়। তারপরেও ধৈর্য্য ধারণ করে কোয়েল পালনের কাজ পুনরোদ্দমে শুরু করে এখনও ভালভাবে চলছে। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা অথবা বিনা সুদে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থার করলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খামার পরিচর্যা করে এলাকার বেকার সমস্যা সামাধান করা সম্ভব হত। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আব্দুল্লাহ বলেন, কোয়েলের ডিম ও মাংস খুব সুস্বাদু এবং উন্নত প্রোটিন সমৃদ্ধ, কোয়েল পালনে খামারে রোগবালাই কম হয়। কোয়েল পালন খুবই লাভজনক হওয়ায় এর দ্বারা বেকারত্ব দূর করা সম্ভব। বর্তমানে সরকারীভাবে প্রাণী সম্পদ দপ্তর থেকে ঋণ দানের কোন সুযোগ নেই। তবে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার উপযোগী হলে তার জন্য সুপারিশ করা হয়।
নারীরাও এই খামার খুব সহজেই গড়ে তুলতে পারেন।
নরসিংদীর দিদার আলম:
নরসিংদীতে দিদার আলম’র কোয়েল পাখির খামার এনে দিয়েছে এলাকার শত পরিবারের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা। মাত্র ২০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু হয় এই কোয়েল পাখি পালন। ১২ বছরের ব্যবধানে এই খামার দিয়েই দিদার আলম এখন কোটিপতি। শুধু তাই নয়, তার এই কোয়েল পাখির খামারের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এলাকার শতাদিক পরিবারের অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিয়েছে। নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার চরনগরদী বাজারের পাশের ব্রক্ষপুত্র নদীর তীরের পলাশেরচর গ্রামের অধিবাসী যুবক দিদার আলম। ১২ বছর আগে সদর উপজেলার কাঠালিয়া ইউনিয়নের তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান এবায়েদ হোসেন’র কাছে থেকে মাত্র ৬শত কোয়েল পাখির বাঁচ্চা ক্রয় করে সিমিত আকারে পালন শুরু করেন। এ সময় তার সর্বমোট খরচ হয় মাত্র ২০ হাজার টাকা। তার খামার থেকে আহরিত ডিম এলাকার বেকার যুবকদের মাধ্যমে গ্রামের হাটে-বাজারে বিক্রি শুরু করে। সুস্বাধু এই ডিমের চাহিদা ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রথম বছরেই ভালো লাভের মূখ দেখতে পান তিনি। এরপর ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হয় পাখির খামারটি। তার এই খামার দেখে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। যার ফলে আশ পাশের লোকজনের মধ্যে কোয়েল পালনের আগ্রহ তৈরী হলে দিদার বাঁচ্চা ফুটানোর জন্য ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করে একটি যন্ত্র (ইনকিউভেটর) ক্রয় করে বাঁচ্চা ফুটানো শুরু করেন। এরপর থেকে তিনি আশ পাশের এলাকায় বাঁচ্চা বিক্রি শুরু করেন। এভাবে পলাশেরচরের অন্যান্যরা ২০-২৫টি খামার গড়ে তোলেন। এভাবে দিনদিন তার এই ব্যবসা প্রসার হতে থাকলে ২০০৭ সালে খামারে সারাদেশের ন্যায় বার্ডফ্লু রোগে আক্রান্ত হয়ে খামারটি এক পর্যায়ে ধ্বংশ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। এঅবস্থায় সরকার তাকে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরন দেয়। এরপর শুরু হয় নতুন উদ্যমে কোয়েল পালন। সংগ্রহ করেন ৪টি বাঁচ্চা ফুটানোর যন্ত্র (ইনকিউভেটর)। যা দিয়ে একসাথে ২২ হাজার বাঁচ্চা উৎপাদন সম্ভব। ৪টি মেশিন দিয়ে বাঁচ্চা ফুটিয়ে তিনি বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করেন। ডিম বিক্রির পাশাপাশি বাঁচ্চা বিক্রিতেও ব্যাপক সাড়া সাড়া ফেলতে সক্ষম হন তিনি। দিদার আলম এই ১২ বৎসরে কোয়েল পাখির খামার দিয়ে কোটি টাকা ব্যয় করে একটি বাড়ি নির্মান করে। যার ছাদে রয়েছে একটি কোয়েল পাখির খামার। এই খামারে রয়েছে ১০ হাজারের মতো পাখি। পাশের গ্রামের আরেকটি খামার রয়েছে তার। সেখানেও রয়েছে আরো ১০ হাজার পাখি। তার বাড়ির খামার থেকে এখন দৈনিক ৮-৯ হাজার ডিম পাওয়া যায়। এই ডিম হাটে-বাজারে নিয়ে বিক্রি করা হয়। প্রতিটি ডিম বিক্রি হয় দুই টাকা করে। অপর খামারের ডিম দিয়ে বাঁচ্চা ফুটিয়ে বিক্রি করা হয়।
গাইবান্ধার আহসান হাবীব সুজা :
গাইবান্ধা শহর থেকে অন্তত ৩০ কিলোমিটার দূরে উপজেলার নাম সাঘাটা। গ্রামের নাম আবুল্লারপাড়া। এ গ্রামের বাসিন্দা সাবেক সেনাসদস্য আহসান হাবীব সুজা। অবসর গ্রহণের পর ২০১০ সালে ৩০০ কোয়েল পাখি নিয়ে একটি খামার তৈরি করেন। স্ত্রী শিউলীর নামে নাম রাখেন এস এগ্রো ফার্ম। ৩০০ কোয়েল পাখি নিয়ে শুরু করলেও এখন তার খামারে ৮০ হাজার পাখি। প্রতিদিন ডিম আর বাচ্চা বিক্রি করে আয় হচ্ছে ৬০ হাজার টাকা। পাখির মাংসের চাহিদা মিটিয়ে কোয়েল পাখি গাইবান্ধা ছেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। অন্যদিকে প্রতিদিন গড়ে আয় হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। পিতার জমিজুড়ে খামার গড়ে তোলেন। আবাদি জমির ওপর বড় আকারে খনন করেন পুকুর। পুকুরে হয় মাছের চাষ। আর তার চারপাশে বিশাল চালায় গড়ে তোলেন কোয়েল পাখির খামার। খামার পরিচর্যার জন্য নিয়োগ করেন লোকজন। তারপর এক বছরের মাথায় পাখির সংখ্যা যেমন বাড়তে থাকে, বাড়তে থাকে ডিম। মাত্র ৬ মাসের মধ্যে ৭০ হাজার পাখির খামারে পরিণত হয়। খামার থেকে প্রতিদিন কোয়েল পাখি ও ডিম যাচ্ছে ঢাকার পাইকারি আড়তগুলোতে। তাতে প্রতিদিন ডিম আসে ১৫ থেকে ২০ হাজার আর কোয়েল পাখি বিক্রি হয় ১০ থেকে ১১ হাজার। তাতে নগদ আসে ৬০ হাজার টাকা। গ্রামের অন্তত ৮০ জন বেকারের কর্মসংস্থান হয়েছে এই খামারকে কেন্দ্র করে। অনেকে পাখি ও ডিম ফেরি করে ছেলেমেয়ের পড়ালেখা ও সংসারের খরচের যোগান দিচ্ছে। তাদের প্রতিদিন রোজগার হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।
নরসিংদীর দিদার আলমের কোটিপতি হবার গল্প।
নরসিংদীতে দিদার আলমের কোয়েল পাখির খামার এনে দিয়েছে এলাকার শত পরিবারের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা। মাত্র ২০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে দিদার আলম শুরু করেন কোয়েল পাখি পালন। ১২ বছরের ব্যবধানে এ খামার দিয়েই তিনি এখন কোটিপতি। শুধু তা-ই নয়, তার এ কোয়েল পাখির খামার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এলাকার শতাধিক পরিবারের অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিয়েছে।
নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার চরনগরদী বাজারের পাশে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ছোট্ট একটি গ্রামের নাম পলাশেরচর। এ গ্রামেরই আত্মপ্রত্যয়ী এক যুবকের নাম দিদার আলম। বাড়ির পাশের চরনগরদী বাজারে একটি ওষুধের দোকান, যা দিদার আলম নিজেই পরিচালনা করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। সেই থেকে দিদার আলম ডাক্তার হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করেন।
১২ বছর আগের কথা। একসময় কয়েনের (ধাতব মুদ্রা) অভাব দেখা দেয়। ওষুধের দোকানে এ কয়েনের জন্য বেচাকেনায় বিঘœ ঘটে। সে সময় দিদারের সঙ্গে পরিচয় হয় নরসিংদী সদর উপজেলার দগরিয়া গ্রামের রিয়াজ নামের এক যুবকের। পরিচয়ের সূত্র ধরে এ সময় রিয়াজের কাছ থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় দিদার ভাঙতি কয়েন সংগ্রহ করেন। এভাবেই রিয়াজের সঙ্গে দিদারের সখ্য গড়ে ওঠে। কথা প্রসঙ্গে রিয়াজ দিদারকে জানান, কোয়েল পাখির ডিম বিক্রি করে এ কয়েন পাওয়া যায়। দিদার রিয়াজের কাছ থেকে কোয়েল পালনের নানা বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। মোটামুটি লাভজনক হওয়ায় দিদার আলমের ইচ্ছা জাগে কোয়েল পালনের। এছাড়া দিদার আলমের ছেলে হৃদয় তার মামার বাড়ি শিবপুর থেকে দুটি কোয়েল পাখির বাচ্চা এনে লালন-পালন করতে দেখে আগ্রহটা আরও বেড়ে ওঠে। এরপর সদর উপজেলার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান এবায়েদ হোসেনের কাছ থেকে মাত্র ৬০০ কোয়েল পাখির বাচ্চা কিনে সীমিত আকারে পালন শুরু করেন। এ সময় খরচ হয় ২০ হাজার টাকা। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তার খামার থেকে আহরিত ডিম এলাকার বেকার যুবকদের মাধ্যমে গ্রামের হাটে-বাজারে বিক্রি শুরু করেন। গুণে, মানে ও পুষ্টিতে ভরপুর এ ডিমের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। প্রথম বছরেই কোয়েল পাখির এই খামার করে ব্যাপক লাভের মুখ দেখেন দিদার। এরপর আস্তে আস্তে সম্প্রসারিত হতে থাকে দিদারের কোয়েল পাখির খামারটি। তার এ খামার এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয়। এতে আশপাশের লোকজনের মধ্যে কোয়েল পালনের আগ্রহ বাড়ে। পলাশেরচরের লোকনাথ, পারভীন বেগম, শাহিদা বেগম, মাঝেরচর গ্রামের নারগিস বেগম, মান্নান মিয়া, বাড়ারচর গ্রামের কামাল হোসেন, ফিরোজ মিয়াসহ অন্যদের প্রায় ২০ থেকে ২৫টি খামার গড়ে উঠেছে। এ অবস্থায় দিদার বাচ্চা ফোটানোর জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করে একটি যন্ত্র (ইনকিউভেটর) কেনেন। এ যন্ত্রের মাধ্যমে তিনি কোয়েলের বাচ্চা ফোটানো শুরু করেন এবং আশপাশের এলাকায় বাচ্চা বিক্রি শুরু করেন। এভাবেই দিন দিন তার এ ব্যবসার প্রসার হতে থাকে।
২০০৭ সালে বার্ডফ্লু রোগে আক্রান্ত হয়ে খামারটি একপর্যায়ে ধক্ষংসের উপক্রম হয়। এ অবস্থায় সরকার তাকে ৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়। এরপর শুরু হয় নতুন উদ্যমে কোয়েল পালন। সংগ্রহ করেন চারটি বাচ্চা ফোটানোর যন্ত্র (ইনকিউভেটর), যা দিয়ে একসঙ্গে ২২ হাজার বাচ্চা উৎপাদন সম্ভব। চারটি মেশিন দিয়ে বাচ্চা ফুটিয়ে তিনি সারা দেশে বিক্রি করতে থাকেন। ডিম বিক্রির পাশাপাশি বাচ্চা বিক্রিতেও সাড়া জাগান তিনি।
দিদার আলম জানান, অল্প পুঁজি, কম ঝুঁকি, কম সময় এবং খুব অল্প স্থানেই এ পাখি পালন করা যায়। যেমন ১ বর্গফুট জায়গায় ১টি মুরগি পালন করা যায় আর কোয়েল পাখি পালন করা যায় ৬টি। ঠা-া ছাড়া তেমন কোনো রোগ কোয়েল পাখির বেলায় দেখা যায় না।
একটি পাখি দৈনিক মাত্র ১ টাকা ২০ পয়সার খাবার খায় আর ১টি ডিম বিক্রি হয় ২ টাকায়, পাইকারি হিসেবে। এ হিসাবে কোনো পরিবার যদি মাত্র ২ হাজার কোয়েল পাখি পালন করে, তাহলে সব খরচ বাদ দিয়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা আয় করা সম্ভব।
দিদার আলম কথা প্রসঙ্গে আরও জানান, আমি ১২ বছর ধরে কোয়েল পাখির খামার দিয়ে কোটি টাকা ব্যয় করে একটি বাড়ি নির্মাণ করেছি। বাড়িটির ছাদেই রয়েছে আমার এ পাখির খামার। আজ আমার একটি খামারেই রয়েছে ১০ হাজারের মতো পাখি। পাশের গ্রামের আরেকটি খামারে রয়েছে আরও ১০ হাজার পাখি। আমার বাড়ির খামার থেকে এখন দৈনিক ৮ থেকে ৯ হাজার ডিম পাওয়া যায়। এ ডিম প্রতিদিনই ২০ থেকে ২৫ জন হকার আমার বাড়ি থেকে নিয়ে সিদ্ধ করে হাটে-বাজারে বিক্রি করেন। অন্য খামারের ডিম দিয়ে আমি বাচ্চা ফোটাই। আমাদের উৎপাদিত কোয়েল পাখির বাচ্চা ৮ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করে থাকি। এছাড়া একটি বাচ্চা ২ মাস বয়স থেকে ডিম দেয়া শুরু করে একাধারে ডিম দেয় ১৮ মাস পর্যন্ত। এরপর থেকে পাখির বয়স হয়ে গেলে ডিমের পরিমাণ কমতে থাকলে প্রতিটি পাখি পাইকারি দরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে সিলেট এলাকায় ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি করে থাকি। আর আমার কাছ থেকে বাচ্চা নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি খামার গড়ে উঠেছে।
দিদার আলমের বাড়ির খামারের সার্বক্ষণিক দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন তার সহধর্মিণী আনোয়ারা খানম ডলি। তার পাশাপাশি খামারের কাজের জন্য আরও প্রায় ৫ থেকে ৭ জন লোক রয়েছেন, যাদের ডলিই নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।
ডলি জানান, দিদার আলম দেশের বিভিন্ন স্থানের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের কাজ করেন, আর আমি নিজেই লোকজন নিয়ে বাড়ির খামারটি পরিচালনা করে থাকি। তিনি আরও বলেন, কোয়েল পাখির উচ্ছিষ্ট বিষ্ঠা যেন এলাকার পরিবেশ নষ্ট না করে, সেজন্য গ্রামীণ শক্তির সহায়তায় বায়োগ্যাসের একটি প্রকল্প তৈরি করেন। এ গ্যাস দিয়েই পরিবারের সব রান্নার কাজ পরিচালনা করা হয়। যার ফলে পরিবেশ অধিদফতর থেকে একাধিক পুরস্কার লাভ করেন দিদার আলম। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত প্রাণিসম্পদ মেলায় একাধিক পুরস্কার লাভ করে এ কোয়েল পালন প্রকল্পটি।
দিদার আলম আরও বলেন, বর্তমানে আমি কোয়েল পাখি, ডিম ও বাচ্চার মূল্য বাবদ ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা বিভিন্ন লোকজনের কাছে পাওনা রয়েছি। খামারের মাধ্যমে সরকার যদি আমাকে সুবিধা দিয়ে বড় ধরনের কোনো ঋণের ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে আমি আরও অনেক বড় পরিসরে এ খামারটি পরিচালনার পাশাপাশি বাচ্চা উৎপাদন করে চাহিদা পূরণে চেষ্টা করব। এতে একদিকে বেকার সমস্যা দূর হবে; অন্যদিকে ডিম, পুষ্টি ও মাংসের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দিদার আলমের কাছ কাছ থেকে বাচ্চা নিয়ে তৈরি আরেকটি খামারের মালিক লোকনাথ বলেন, আমরা দেখেছি দিদার এ কোয়েল পাখির খামার করে ব্যাপক উন্নতি করেছে। তাই আমিও চিন্তা করেছি আমার এক ছেলে নরসিংদী সরকারি কলেজে বিএ লেখাপড়া করছে, সে যেন চাকরি বা বিদেশে যাওয়ার চিন্তা না করে। তাকে এ কোয়েল পালনেই নিযুক্ত করব বলে এ খামার তৈরি করেছি। আর এ কোয়েল পালন করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের বেকার সমস্যা দূর করা সম্ভবÑ যার উজ্জ্বল প্রমাণ এ ডাক্তার দিদার আলম। এ বিষয়ে স্থানীয় পলাশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তা ডা. সুবোধ কুমার দাস বলেন, দিদার ডাক্তারের কোয়েল পাখির খামারটি এলাকায় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দেখে এখন এলাকায় কোয়েল পালনের ব্যাপক সাড়া পড়েছে। আমরা খামারটি নিয়মিত পরিদর্শন করে থাকি।
দিদার আলমের এ কোয়েল পাখির খামার সম্পর্কে নরসিংদী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হাসান ইমাম বলেন, আমরা দিদার আলমের কোয়েল পাখির খামার দেখে মুগ্ধ হয়েছি। দিদার অসুস্থ মানুষের সেবাদানের পাশাপাশি এমন একটি সুন্দর প্রকল্প গড়ে দৃষ্টান্ত হয়েছেন। আমরা তার এ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ একাধিকবার পুরস্কৃত করেছি। তার এ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এক সময় জাতীয় পুরস্কার অর্জন করতে সক্ষম হবেন তিনি।
নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার চরনগরদী বাজারের পাশে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ছোট্ট একটি গ্রামের নাম পলাশেরচর। এ গ্রামেরই আত্মপ্রত্যয়ী এক যুবকের নাম দিদার আলম। বাড়ির পাশের চরনগরদী বাজারে একটি ওষুধের দোকান, যা দিদার আলম নিজেই পরিচালনা করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। সেই থেকে দিদার আলম ডাক্তার হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করেন।
১২ বছর আগের কথা। একসময় কয়েনের (ধাতব মুদ্রা) অভাব দেখা দেয়। ওষুধের দোকানে এ কয়েনের জন্য বেচাকেনায় বিঘœ ঘটে। সে সময় দিদারের সঙ্গে পরিচয় হয় নরসিংদী সদর উপজেলার দগরিয়া গ্রামের রিয়াজ নামের এক যুবকের। পরিচয়ের সূত্র ধরে এ সময় রিয়াজের কাছ থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় দিদার ভাঙতি কয়েন সংগ্রহ করেন। এভাবেই রিয়াজের সঙ্গে দিদারের সখ্য গড়ে ওঠে। কথা প্রসঙ্গে রিয়াজ দিদারকে জানান, কোয়েল পাখির ডিম বিক্রি করে এ কয়েন পাওয়া যায়। দিদার রিয়াজের কাছ থেকে কোয়েল পালনের নানা বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। মোটামুটি লাভজনক হওয়ায় দিদার আলমের ইচ্ছা জাগে কোয়েল পালনের। এছাড়া দিদার আলমের ছেলে হৃদয় তার মামার বাড়ি শিবপুর থেকে দুটি কোয়েল পাখির বাচ্চা এনে লালন-পালন করতে দেখে আগ্রহটা আরও বেড়ে ওঠে। এরপর সদর উপজেলার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান এবায়েদ হোসেনের কাছ থেকে মাত্র ৬০০ কোয়েল পাখির বাচ্চা কিনে সীমিত আকারে পালন শুরু করেন। এ সময় খরচ হয় ২০ হাজার টাকা। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে তার খামার থেকে আহরিত ডিম এলাকার বেকার যুবকদের মাধ্যমে গ্রামের হাটে-বাজারে বিক্রি শুরু করেন। গুণে, মানে ও পুষ্টিতে ভরপুর এ ডিমের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। প্রথম বছরেই কোয়েল পাখির এই খামার করে ব্যাপক লাভের মুখ দেখেন দিদার। এরপর আস্তে আস্তে সম্প্রসারিত হতে থাকে দিদারের কোয়েল পাখির খামারটি। তার এ খামার এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয়। এতে আশপাশের লোকজনের মধ্যে কোয়েল পালনের আগ্রহ বাড়ে। পলাশেরচরের লোকনাথ, পারভীন বেগম, শাহিদা বেগম, মাঝেরচর গ্রামের নারগিস বেগম, মান্নান মিয়া, বাড়ারচর গ্রামের কামাল হোসেন, ফিরোজ মিয়াসহ অন্যদের প্রায় ২০ থেকে ২৫টি খামার গড়ে উঠেছে। এ অবস্থায় দিদার বাচ্চা ফোটানোর জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করে একটি যন্ত্র (ইনকিউভেটর) কেনেন। এ যন্ত্রের মাধ্যমে তিনি কোয়েলের বাচ্চা ফোটানো শুরু করেন এবং আশপাশের এলাকায় বাচ্চা বিক্রি শুরু করেন। এভাবেই দিন দিন তার এ ব্যবসার প্রসার হতে থাকে।
২০০৭ সালে বার্ডফ্লু রোগে আক্রান্ত হয়ে খামারটি একপর্যায়ে ধক্ষংসের উপক্রম হয়। এ অবস্থায় সরকার তাকে ৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়। এরপর শুরু হয় নতুন উদ্যমে কোয়েল পালন। সংগ্রহ করেন চারটি বাচ্চা ফোটানোর যন্ত্র (ইনকিউভেটর), যা দিয়ে একসঙ্গে ২২ হাজার বাচ্চা উৎপাদন সম্ভব। চারটি মেশিন দিয়ে বাচ্চা ফুটিয়ে তিনি সারা দেশে বিক্রি করতে থাকেন। ডিম বিক্রির পাশাপাশি বাচ্চা বিক্রিতেও সাড়া জাগান তিনি।
দিদার আলম জানান, অল্প পুঁজি, কম ঝুঁকি, কম সময় এবং খুব অল্প স্থানেই এ পাখি পালন করা যায়। যেমন ১ বর্গফুট জায়গায় ১টি মুরগি পালন করা যায় আর কোয়েল পাখি পালন করা যায় ৬টি। ঠা-া ছাড়া তেমন কোনো রোগ কোয়েল পাখির বেলায় দেখা যায় না।
একটি পাখি দৈনিক মাত্র ১ টাকা ২০ পয়সার খাবার খায় আর ১টি ডিম বিক্রি হয় ২ টাকায়, পাইকারি হিসেবে। এ হিসাবে কোনো পরিবার যদি মাত্র ২ হাজার কোয়েল পাখি পালন করে, তাহলে সব খরচ বাদ দিয়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা আয় করা সম্ভব।
দিদার আলম কথা প্রসঙ্গে আরও জানান, আমি ১২ বছর ধরে কোয়েল পাখির খামার দিয়ে কোটি টাকা ব্যয় করে একটি বাড়ি নির্মাণ করেছি। বাড়িটির ছাদেই রয়েছে আমার এ পাখির খামার। আজ আমার একটি খামারেই রয়েছে ১০ হাজারের মতো পাখি। পাশের গ্রামের আরেকটি খামারে রয়েছে আরও ১০ হাজার পাখি। আমার বাড়ির খামার থেকে এখন দৈনিক ৮ থেকে ৯ হাজার ডিম পাওয়া যায়। এ ডিম প্রতিদিনই ২০ থেকে ২৫ জন হকার আমার বাড়ি থেকে নিয়ে সিদ্ধ করে হাটে-বাজারে বিক্রি করেন। অন্য খামারের ডিম দিয়ে আমি বাচ্চা ফোটাই। আমাদের উৎপাদিত কোয়েল পাখির বাচ্চা ৮ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করে থাকি। এছাড়া একটি বাচ্চা ২ মাস বয়স থেকে ডিম দেয়া শুরু করে একাধারে ডিম দেয় ১৮ মাস পর্যন্ত। এরপর থেকে পাখির বয়স হয়ে গেলে ডিমের পরিমাণ কমতে থাকলে প্রতিটি পাখি পাইকারি দরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে সিলেট এলাকায় ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি করে থাকি। আর আমার কাছ থেকে বাচ্চা নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি খামার গড়ে উঠেছে।
দিদার আলমের বাড়ির খামারের সার্বক্ষণিক দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন তার সহধর্মিণী আনোয়ারা খানম ডলি। তার পাশাপাশি খামারের কাজের জন্য আরও প্রায় ৫ থেকে ৭ জন লোক রয়েছেন, যাদের ডলিই নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন।
ডলি জানান, দিদার আলম দেশের বিভিন্ন স্থানের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের কাজ করেন, আর আমি নিজেই লোকজন নিয়ে বাড়ির খামারটি পরিচালনা করে থাকি। তিনি আরও বলেন, কোয়েল পাখির উচ্ছিষ্ট বিষ্ঠা যেন এলাকার পরিবেশ নষ্ট না করে, সেজন্য গ্রামীণ শক্তির সহায়তায় বায়োগ্যাসের একটি প্রকল্প তৈরি করেন। এ গ্যাস দিয়েই পরিবারের সব রান্নার কাজ পরিচালনা করা হয়। যার ফলে পরিবেশ অধিদফতর থেকে একাধিক পুরস্কার লাভ করেন দিদার আলম। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত প্রাণিসম্পদ মেলায় একাধিক পুরস্কার লাভ করে এ কোয়েল পালন প্রকল্পটি।
দিদার আলম আরও বলেন, বর্তমানে আমি কোয়েল পাখি, ডিম ও বাচ্চার মূল্য বাবদ ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা বিভিন্ন লোকজনের কাছে পাওনা রয়েছি। খামারের মাধ্যমে সরকার যদি আমাকে সুবিধা দিয়ে বড় ধরনের কোনো ঋণের ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে আমি আরও অনেক বড় পরিসরে এ খামারটি পরিচালনার পাশাপাশি বাচ্চা উৎপাদন করে চাহিদা পূরণে চেষ্টা করব। এতে একদিকে বেকার সমস্যা দূর হবে; অন্যদিকে ডিম, পুষ্টি ও মাংসের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দিদার আলমের কাছ কাছ থেকে বাচ্চা নিয়ে তৈরি আরেকটি খামারের মালিক লোকনাথ বলেন, আমরা দেখেছি দিদার এ কোয়েল পাখির খামার করে ব্যাপক উন্নতি করেছে। তাই আমিও চিন্তা করেছি আমার এক ছেলে নরসিংদী সরকারি কলেজে বিএ লেখাপড়া করছে, সে যেন চাকরি বা বিদেশে যাওয়ার চিন্তা না করে। তাকে এ কোয়েল পালনেই নিযুক্ত করব বলে এ খামার তৈরি করেছি। আর এ কোয়েল পালন করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের বেকার সমস্যা দূর করা সম্ভবÑ যার উজ্জ্বল প্রমাণ এ ডাক্তার দিদার আলম। এ বিষয়ে স্থানীয় পলাশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তা ডা. সুবোধ কুমার দাস বলেন, দিদার ডাক্তারের কোয়েল পাখির খামারটি এলাকায় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দেখে এখন এলাকায় কোয়েল পালনের ব্যাপক সাড়া পড়েছে। আমরা খামারটি নিয়মিত পরিদর্শন করে থাকি।
দিদার আলমের এ কোয়েল পাখির খামার সম্পর্কে নরসিংদী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হাসান ইমাম বলেন, আমরা দিদার আলমের কোয়েল পাখির খামার দেখে মুগ্ধ হয়েছি। দিদার অসুস্থ মানুষের সেবাদানের পাশাপাশি এমন একটি সুন্দর প্রকল্প গড়ে দৃষ্টান্ত হয়েছেন। আমরা তার এ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ একাধিকবার পুরস্কৃত করেছি। তার এ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এক সময় জাতীয় পুরস্কার অর্জন করতে সক্ষম হবেন তিনি।



This comment has been removed by the author.
ReplyDeleteআমরাই প্রথম ১০০% নিশ্চায়তার সহিত, কয়েল পাখির ডিম, রেডি কয়েল, ডিম দেওয়া কয়েল, সরবরাহ করছি দেশের বিভিন্ন স্থানে। যে কোন অনুষ্ঠানে কয়েল পাখির অর্ডার নিয়ে থাকি।
ReplyDeleteমোবাইল নাম্বার : ০১৭১২ ০৫ ০৩ ৯২